রিলায়েন্স জিও-র নতুন পদক্ষেপ: জিও কয়েন
ভারতের টেলিকম জায়ান্ট রিলায়েন্স জিও ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে প্রবেশ করেছে জিও কয়েন লঞ্চের মাধ্যমে। এই প্রকল্পে তাদের সাথে কাজ করছে পলিগন ল্যাবস। জিও কয়েন পলিগন ব্লকচেইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং এটি ভারতে ডিজিটাল অর্থনীতিতে এক নতুন দিশা দেখাবে। জিওস্পিয়ার ব্রাউজার ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করলেই ব্যবহারকারীরা জিও কয়েন উপার্জন করতে পারবেন, যা পলিগন ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকবে।
জিও কয়েনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার:
জিও ইকোসিস্টেমে ব্যবহার:
জিও কয়েন দিয়ে মোবাইল রিচার্জ, রিলায়েন্সের দোকানে কেনাকাটা, ডিসকাউন্ট, জ্বালানি কেনা, এবং বিশেষ ফিচার ব্যবহার করা যাবে।
মূল্য অনুমান:
যদিও এখনো জিও কয়েনের দাম প্রকাশিত হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রতি কয়েনের দাম $0.5 (₹43.30) দিয়ে শুরু হতে পারে। জিওর সেবাগুলোর সাথে এটি যত বেশি সংযুক্ত হবে, তত বেশি দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জিও কয়েন কীভাবে পাওয়া যাবে?
বর্তমানে জিও কয়েন সরাসরি কেনা যাবে না। ব্যবহারকারীরা এটি উপার্জন করতে পারবেন জিওস্পিয়ার ব্রাউজার ডাউনলোড করে।
প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইসে জিওস্পিয়ার ব্রাউজার ডাউনলোড করুন।
আপনার জিও নম্বর দিয়ে সাইন আপ করুন।
ইন্টারনেট ব্রাউজ করা শুরু করলেই জিও কয়েন উপার্জন হবে।
ভবিষ্যতে:
জিও কয়েন মাইজিও অ্যাপ অথবা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ট্রান্সফার বা রিডিম করা যাবে। এমনকি এটি কোইনেক্স বা জেবপে-র মতো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে ট্রেড করাও সম্ভব হতে পারে।
বিস্তৃত প্রভাব:
ভারতের জন্য:
রিলায়েন্স জিওর ৪৫০ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী ব্লকচেইন এবং Web3 প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। এটি ভারতের ক্রিপ্টো মার্কেটে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ:
ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর ৩০% কর এবং লেনদেনের ওপর ১% টিডিএস থাকায় কিছু বাধা থাকতে পারে। তবে রিলায়েন্স এবং পলিগনের এই অংশীদারিত্ব ডিজিটাল মুদ্রার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
পলিগন ও ইথেরিয়ামের জন্য:
জিও কয়েনের জন্য পলিগনের ব্লকচেইন ব্যবহার পলিগনের লেনদেন বাড়াবে এবং ইথেরিয়াম ইকোসিস্টেমকেও শক্তিশালী করবে।
জিও কয়েন হল রিলায়েন্স জিওর একটি বড় পদক্ষেপ, যা ভারতে Web3 প্রযুক্তি প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা নেবে এবং ডিজিটাল ও ব্লকচেইন সংযুক্ত অর্থনীতির পথ সুগম করবে।
